মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচি এবং বিরতি স্থান ও ভাড়ার তালিকা | Mohanagar Express

মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচি এবং বিরতি স্থান ও ভাড়ার তালিকা | Mohanagar Express

হ্যালো বন্ধুরা। আশা করছি আপনারা সকলেই অনেক ভালো এবং সুস্থ আছেন। আপনাদের ভালো থাকার জন্য আমি আবারও চলে এলাম একটি নতুন আর্টিকেল নিয়ে। আজকেল এই আর্টিকেলটি পড়ে হয়তো আপনাদের অনেকের মন আরো অনেক ভালো হয়ে যাবে। আজকের আর্টিকেলে আমি আলোচনা করবো একটি নতুন বিষয় নিয়ে। আপনারা অনেকেই যেটি জানতে চেয়েছেন। 

 

বন্ধুরা আজকের আর্টিকেলে আমি আলোচনা করবো মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচি এবং বিরতি স্থান ও ভাড়ার তালিকা সহ বিস্তারিত অনেক কিছু। আশা করছি আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের অনেক বেশি ভালো লাগবে এবং এর দ্বারা আপনারা উপকৃত হবেন। তো শেষপর্যন্ত আমার সাথেই থাকুন এবং মনোযোগ দিয়ে পুরো আর্টিকেলটি পড়ুন। আর দেরি না করে চলেন শুরু করি।

 

অনেকেই মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচি জানতে চান। আপনারা জানেন মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন হচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে যত গুলো ট্রেন রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম একটি ট্রেন। আপনাদের মধ্যে যারা মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে ভ্রমণ করতে চান বা করেন তারা এর সময়সূচি ভাড়া এবং বিরতি স্থান নিয়ে অনেক সংশয়ে ভোগেন। আপনাদের এই সংশয় দূর করার জন্যই আমার এই আর্টিকেলটি। তাহলে চলুন বিস্তারিত জানা যাক।



মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী

 

সময়সূচি আমাদের প্রত্যেকের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বিশেষ করে ট্রেন ভ্রমণে এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সময় অনুসারে যাত্রা শুরু করে তাকে ট্রেন। তাই আমাদের সঠিক সময় জেনে নিয়ে স্টেশনে পৌঁছানো উচিত যাতে ট্রেন না মিস হয়ে যায়। তাই এখন আমি আপনাদের সুবিধার জন্য মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচি নিয়ে উপস্থিত হয়েছি।

 

মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা এই রুটে নিয়মিত চলাচল করে থাকে। আপনি যদি এই রুটে ভ্রমণ করার ইচ্ছে করেন তবে অবশ্যই মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বেছে নিতে পারেন। কেননা এই ট্রেনটির রয়েছে অসংখ্য সুযোগ সুবিধা। 

 

এখন আমি মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটির সঠিক সময় সূচি নিয়ে আলোচনা করবো। সময়সূচী বলতে যে বিষয়টি আমি তুলে ধরবো তা হলো ট্রেন ছাড়ার সময় এবং যাত্রায় পৌঁছানোর সময়। ছাড়ার সময় পৌঁছানোর সময় বলতে কখন ট্রেনটি কোন স্টেশন থেকে ছাড়ে এবং কখন কোন স্টেশনে গিয়ে পৌঁছায় এই বিষয়টি তুলে ধরবো।এছাড়াও আপনি এই আর্টিকেলটি থেকে ট্রেনের ছুটির দিন জেনে নিতে পারবেন। নিশ্চিন্তে এটি জানা আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।



স্টেশনের নাম     ছাড়ার সময়    পৌঁছানোর সময়

 

ঢাকা টু চট্টগ্রাম   ২১ঃ২০               ০৪ঃ৫০

 

চট্টগ্রাম টু ঢাকা   ১২ঃ৩০               ১৯ঃ১০

 

এছাড়া এটি প্রত্যেক রবিবার বন্ধ থাকে।



চট্টগ্রাম টু ঢাকা বিরতি স্থান ও সময়সূচি। 

 

একজন ট্রেন ভ্রমণকারীর জন্য অবশ্যই ট্রেনের সময়সূচি গুলো জানা খুব প্রয়োজন। ট্রেনটির সময় জানার পাশাপাশি অবশ্যই এটা জানা জরুরি যে ট্রেনটি কখন কোথায় বিরতি নিবে ইত্যাদি। বন্ধুরা এখন আমি আপনাদের জানাবো ট্রেনের বিরতি স্থান ও সময়সূচি। 



স্টেশনের নাম       পৌঁছানোর সময়

 

চট্টগ্রাম                    ১২ঃ৩০ মিনিট

 

ফেনী                       ১৪ঃ০৪ মিনিট

 

লাকসাম                 ১৪ঃ৫৩ মিনিট

 

কুমিল্লা                    ১৫ঃ২০ মিনিট

 

আখাউড়া               ১৬ঃ২০ মিনিট

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া         ১৬ঃ৪২ মিনিট

 

ভৈরববাজার           ১৭ঃ১০ মিনিট

 

বিমানবন্দর             ১৮ঃ৩২ মিনিট 

 

ঢাকা                       ১৯১০ মিনিট




মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া তালিকা।

 

আপনি ট্রেন ভ্রমণ করবেন অথচ জানবেন না যে ভ্রমণ কালে ট্রেনটি কত টাকা নিবে। তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত বোকামি হবে। আমরা জানি আসন ভেদে প্রত্যেকটি ট্রেনের ভাড়া আলাদা আলাদা রকমের হয়ে থাকে। যেহেতু এখন ডিজিটাল সময় তাই অনেকে চাইলেও অনলাইনের মাধ্যমে খুব সহজে ঘরে বসে ট্রেনের বর্তমান ভাড়া সম্পর্কে খুব তাড়াতাড়ি জেনে নিতে পারেন।

 

আপনাদের মধ্যে যারা অনলাইন সম্পর্কে অতটা অভিজ্ঞ নন তারা চাইলেই আমার এই আর্টিকেলটি ফলো করতে পারেন। এটির মাধ্যমে আপনারা বিস্তারিত জেনে যাবেন এবং পুরো ট্রেন ভ্রমণটি আপনাদের জন্য অনেক সহজ এবং সুখকর হবে বলে আশা করছি। 

 

মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে কয়েক শ্রেণীর আসন বিন্যাস রয়েছে, যাদের টিকিটের মূল্য ভিন্ন ভিন্ন। চলুন বিস্তারিত এক পলকে কেনে নেওয়া যাক।



আসন বিভাগ  টিকেটের মূল্য (১৫% ভ্যাট)

 

শোভন চেয়ার   ২৬৫ টাকা 

প্রথম সিট         ৪৮০ টাকা 

স্নিগ্ধা               ৬৭৫ টাকা

এসি সিট         ৮০৮ টাকা

 

বন্ধুরা আশা করছি আপনারা এখান থেকে খুব সহজে আপনার পছন্দের সিটটি বেছে নিতে পারবেন এবং সুন্দর ভাবে ট্রেন ভ্রমণ করবেন।



মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট ক্রয়।

 

বন্ধুরা এখন আলোচনা করবো আজকের আর্টিকেলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেটি জানা থাকলে আপনার ট্রেন ভ্রমণের সকল কার্যাবলি খুব সহজ ভাবে সম্পন্ন হবে। 

 

আপনারা যারা মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে ভ্রমণ করতে চান তারা চাইলে নিজ নিজ নিকটবর্তী স্টেশনে গিয়ে আপন টিকেট সংগ্রহ করে নিতে পারবেন। আর যদি কর্ম ব্যস্ততার জন্য স্টেশনে যাওয়ার সময় না হয় তবে অবশ্যই ঘরে বসে খুব সহজে টিকেট ক্রয় করে ফেলতে পারবেন।

 

বর্তমান যুগ আধুনিকতার যুগ। এখন অসম্ভব বলে কোনো কথা নেই। পুরো পৃথিবী এখন আমাদের হাতের মুঠোয়। আমরা ইচ্ছে করলে ঘরে বসে পৃথিবীকে কন্ট্রোল করতে পারি। আর ঘরে বসে টিকেট ক্রয় তো কোনো ব্যাপারই নয়। বন্ধুরা আপনারা ঘরে বসে খুব সহজে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট ক্রয় করে ফেলতে পারবেন।



টিকেট ক্রয় করার জন্য আমাদের সর্বপ্রতম বাংলাদেশ রেলওয়ে এর ওয়েবসাইটে যেতে হবে এবং সেখানে রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে। চলুন ধাপে ধাপে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

 

আপনারা যদি ওয়েবসাইটটি সঠিকভাবে রেজিস্ট্রেশন করা সম্পূর্ণ করেন তাহলে এবার আপনাদেরকে জানতে হবে কীভাবে বাংলাদেশ রেলওয়ে টিকেট ক্রয় করতে পারবেন সেই সম্পর্কে

 

এবার আপনাদেরকে ধাপে ধাপে সুন্দর করে দেখাবো কীভাবে বাংলাদেশ রেলওয়ে টিকেট ক্রয় করবেন।



  • প্রথমে আপনাকে https://www.esheba.cnsbd.com/ এই ওয়েবসাইটটিতে যেতে হবে এরপরে আপনার একাউন্টটি তে লগ ইন করতে হবে।

 

  • আপনি এবার এরকম Welcome To Bangladesh Railway E-Ticketing Service লেখিত একটা পেইজ  আপনার সামনে আসবে। আপনাকে এবার কিছু তথ্য যেমন বর্তমান স্টেশন, গন্তব্য স্টেশন, যাতায়াতের তারিখ এগুলো সিলেক্ট করতে হবে। এরপরে আপনাকে সিটের ক্লাস সিলেক্ট করতে বে। যেমন ধরুন- Ac-s/Rahan/F-seat/F chair এইভাবে।

 

  • এবার আপনি ওখানে Find নামক একটি বাটন দেখতে পাবেন। এরপরের পেইজে আপনার পূরণ করা তথ্য অনুযায়ী সেখানে সব ধরনের রুটের ট্রেনের তথ্য সময় এবং ভাড়া সহ সব জানিয়ে দেওয়া হবে।

 

  • আপনাকে এবার আপনার পছন্দের ট্রেনটি সিলেক্ট করে নিতে হবে এবং আপনি যেখানে যেতে চাচ্ছেন সেখানে যাওয়ার জন্য আপনার টিকেট অ্যাভেলেবল রয়েছে কিনা সেটা জানতে হবে। এইজন্য আপনি সেখানে  চেইক এবিলিটি বলে একটি অপশন দেখতে পারবেন সেই অপশনটিতে ক্লিক করবেন।



  • যদি টিকেট অ্যাভেলেবল থেকে থাকে তাহলে আপনি সেখানে buy a ticket নামক একটি অপশন আছে সেই অপশনে ক্লিক করে আপনারা এখান থেকে ভিসা কার্ড বিকাশ অন্যান্য পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে টিকেট ক্রয় করতেপারবেন।

 

  • পেমেন্ট কার্যক্রমটি সম্পন্ন হওয়ার পর আপনার ব্যালেন্স থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা কেটে নেওয়া হবে। আপনি টিকেট কেনার সময় যে ইমেইল টি ব্যবহার করেছেন সেই মেইলটিতে আপনার ক্রয়কৃত টিকিট পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

 

  • আপনাকে ইমেইল থেকে টিকেট প্রিন্ট করে নিতে হবে এবং সেটি ছাপিয়ে নিতে হবে। তারপরে আপনি এই প্রিন্ট করা ই-টিকিট দেখিয়ে নিজের গন্তব্য স্থানে যেতে পারবেন বাংলাদেশ রেলওয়ে ট্রেনের মাধ্যমে।

 

  • বন্ধুরা আপনারা এই ধাপগুলো অনুসরণ করে ঘরে বসেই ট্রেনের ক্রয় করতে পারবেন।



তো বন্ধুরা আজকের এই আর্টিকেলটি এই পর্যন্তই। আশা করছি আজকের এই লেখাটি আপনাদের অনেক ভালো লেগেছে এবং এর মাধ্যমে আপনারা উপকৃত হবেন। আপনাদের মতামত অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাবেন। নিয়মিত এমন পোস্ট পেতে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করবেন। এতক্ষণ আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।