হারানো বা চুরি ফোন খুঁজে পাওয়ার উপায় ২০২৪

মোবাইল হারিয়ে গেলে যোগাযোগ ব্যবস্থা একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। অনেকসময় মোবাইল ফোনে আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে। তাই হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফিরে পেতে আমরা সবাই ব্যাকুল হয়ে যাই। আজকের আর্টিকেলে আমি জানাবো কীভাবে মোবাইল ফোন ফিরে পাওয়া সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে খুঁজে পেতে পারেন আপনার হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনটি।

হারানো বা চুরি ফোন খুঁজে পাওয়ার উপায় ২০২৪
হারানো মোবাইল খুঁজে পাওয়ার উপায়

হারানো মোবাইল খুঁজে পাওয়ার উপায়: এই আর্টিকেলে আপনি জানতে পারবেন আপনার হাতের এন্ড্রয়েডটি যদি হারিয়ে যায় তাহলে আপনি তা কীভাবে ফিরে পাবেন। আশা করছি আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের অনেক উপকারে আসবে। তো শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে আমার সাথেই থাকুন।



হারানো Android খুঁজে পাওয়ার উপায়-



মোবাইল ফোন আমাদের জীবনের একটা অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ আধুনিক সময়ের সাথে তাল মেলাতে অবশ্যই ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস প্রয়োজন। আর এই ডিভাইস হিসেবে আমরা অনেকেই বেছে নিয়েছি মোবাইল ফোন। মোবাইল ফোন হয়ে উঠেছে আমাদের প্রাণ। তাই যেভাবেই হোক নিজের হাতের Android সেটটি যদি হারিয়ে যায় আমরা অস্থির হয়ে পড়ি। এই ফোনটিকে ফিরে পাওয়ার অনেক চেষ্টা করি কিন্তু সম্ভব হয় না।

মোবাইল হারিয়ে গেলে যোগাযোগ ব্যবস্থা একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। অনেকসময় মোবাইল ফোনে আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে। তাই হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফিরে পেতে আমরা সবাই ব্যাকুল হয়ে যাই। আজকের আর্টিকেলে আমি জানাবো কীভাবে মোবাইল ফোন ফিরে পাওয়া সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে খুঁজে পেতে পারেন আপনার হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনটি।





          Table Of contents

১. জিডি করার মাধ্যমে হারানো মোবাইল খুঁজে   

    পাওয়া। 

২. গুগলের Find My Device এর সাহায্যে হারানো 

     মোবাইল খুঁজে বের করা।

   ২.১. Find My Device চালু আছে কিনা নিশ্চিত 

           হোন।

   ২.২. যেসকল platform থেকে Find My Device

           ব্যবহার করতে পারবেন।

৩.মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে হারানো মোবাইল

     খুঁজে বের করা। 

   ৩.১. প্লে সাউন্ড 

   ৩.২. সিকিউর ডিভাইস 

   ৩.৩. ইরেজ ডিভাইস 

৪.ওয়েবসাইটের সাহায্যে হারানো মোবাইল খুঁজে 

    বের করা। 

   ৪.১. গুগল Find My Device ব্যবহারের শর্ত।

৫.আইএমইআই এর মাধ্যমে হারানো মোবাইল খুঁজে 

   পাওয়া।

৬.শেষকথা 






১. জিডি করার মাধ্যমে হারানো মোবাইল খুঁজে পাওয়া। 

আপনারা অনেকেই মনে করেন জিডি করাটা বেশ কষ্টদায়ক বা এতে কোনোরূপ কাজ হয় না। বিষয়টা একেবারেই সেটি নয়। বন্ধুরা যদি আপনার মোবাইল হারিয়ে যায় কিংবা চুরি হয়ে যেয়ে থাকে তবে আপনি সর্বপ্রথম জিডি করবেন। মোবাইল ফোন হারালে থানায় জিডি করার মাধ্যমে আপনি পুরো বিষয়টি আয়ত্তে আনতে পারবেন। এবং পরবর্তীতে যদি হারিয়ে যাওয়া মোবাইলটি ফিরে পান তবে অবশ্যই সেটি নিতে জিডির কপি লাগবে। তাই মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলেই জিডি করুন। এটি আপনাকে অনেক সাহায্য করবে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফিরে পেতে। 

 

 

২. গুগলের Find My Device এর সাহায্যে হারানো মোবাইল খুঁজে বের করা।

বন্ধুরা যদি আপনারা ঘরে বসেই হারিয়ে যাওয়া মোবাইলটি ফিরে পেতে চান তবে ফাইন্ড মাই ডিভাইস এটি আপনাদের জন্য সহায়ক। গুগল Find My Device এটি প্রত্যেক এন্ড্রয়েড ফোনেই রয়েছে। এটি চালু করার জন্য আপনাকে গুগল একাউন্ট দিয়ে সাইন ইন করতে হবে।

 ২.১. Find My Device চালু আছে কিনা নিশ্চিত হোন।

Find My Device অ্যাপটি যদি চালু হয়ে যায় তবে চালু আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে। এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে শুরুতেই চলে যান আপনার ফোনের Settings অপশনে। সেখানে একটু নিচের দিকে ক্রল করলেই Google দেখতে পাবেন৷ গুগল অপশনে ঢুকে service on this device দেখতে পাবেন। সেখানে আপনি ফাইন্ড মাই ডিভাইস অপশনটি খুঁজে পাবেন। তার ট্যাপ করলেই স্ক্রিন ভেসে উঠবে। তারপর আপনি দেখতে পারবেন এতে সার্ভিস চালু আছে কিনা এবং কী কী উপায়ে আপনি আপনার মোবাইল খুঁজে পাবেন। 

 ২.২. যেসকল platform থেকে Find My Device ব্যবহার করতে পারবেন

Find My Device এটি যেকোনো প্লাটফর্ম থেকে ব্যবহার করতে পারবেন। আপনি চাইলে গুগল থাকে Find My Device অ্যাপসি ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া ফোন কিংবা কম্পিউটার এর ব্রাউজার থেকেও এই সেবাটি গ্রহণ করতে পারবেন। ব্রাউজার থেকে প্রবেশ করতে

এখানে ক্লিক করুন



৩.মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে হারানো মোবাইল খুঁজে বের করা। 

যদি আপনার মোবাইল হারিয়ে যায় এবং সে মোবাইলে গুগল সাইন ইন করা থাকে তবে কিছু শর্ত সাপেক্ষে ফোনটি ফিরে পাওয়া সম্ভব। আপনি অন্য একটি মোবাইল দিয়ে আপনার হারিয়ে যাওয়া মোবাইলে থাকা গুগলে সাইন ইন করুন। সাইন ইন করার পর প্লে স্টোর থেকে ফাইন্ড মাই ডিভাইস অ্যাপসটি ইন্সটল করুন। এরপর পুনরায় পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে অ্যাপসি সাইন ইন করতে হবে। সাইন ইন করার পর লোকেশন ট্র্যাকের মতো একটি ইন্টারফেস শো করবে। সে পেইজটিতে মূলত আপনার লোকেশন দেখা যাবে। এবং যেসকল মোবাইলে এই গুগলটি সাইন করা আছে সবগুলোর লোকেশনও দেখা যাবে। গুগল ম্যাপের সাহায্য আপনি খুব তাড়াতাড়ি আপনার হারিয়ে যাওয়া মোবাইলটির লোকেশন ট্র্যাক করতে পারবেন এবং খুব সহজে খুঁজে পাবেন।

 ৩.১. প্লে সাউন্ড

নাম শুনেই নিশ্চয়ই অনুমান করতে পারছেন এটি মোবাইলের আওয়াজ সম্পর্কে। এটির মাধ্যমে আপনি আপনার হারানো বা চুরি হয়ে যাওয়া মোবাইলের রিংটোন ফুল আওয়াজে পাঁচ মিনিট বাজাতে পারবেন। এক্ষেত্রে যদি মোবাইল সাইলেন্ট থাকে তারপরও আওয়াজ হবে৷ হারিয়ে যাওয়া মোবাইল খুঁজে পাওয়ার জন্য এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ফিচার। প্লে সাউন্ড সিস্টেমটি চালু করে দিলে মোবাইল খুঁজে পাওয়া সহজ হবে। 

 ৩.২. সিকিউর ডিভাইস 

অনেকেই মোবাইলে ব্যক্তিগত ছবি, ফাইল, ডকুমেন্টস ইত্যাদি জমা রাখেন। তা হারিয়ে গেলে যেমন সমস্যায় পড়তে হয় তেমন অন্যের হাতে পড়লেও। এ সমস্যা থেকে বাঁচতে গুগল দিয়েছে সিকিউর ডিভাইসের মতো ফিচার। এই ফিচারের সাহায্যে ফোন পুরোপুরি লক করে ফেলা যায়। 

 ৩.৩. ইরেজ ডিভাইস 

ইরেজ ডিভাইস ফিচারটি কে বলা হয় শেষ সম্বল।

আপনি যদি আপনার মোবাইল ফোন ফিরে পাওয়ার সকল আশা ছেড়ে দেন তাহলে আপনি এই ইংরেজ ডিভাইসটি ব্যবহার করতে পারেন। রেজ ডিভাইস ব্যবহারের ফলে আপনার মোবাইলে থাকা সকল ডাটা ধ্বংস হয়ে যাবে এবং আপনার হারিয়ে যাওয়া মোবাইলের সাইন ইন থাকা google account টি সেখান থেকে মুছে যাবে। ডিভাইস করার ফলে ফাইন্ড মাই ডিভাইস এর সাহায্যে আপনার ফোনটি আর ফিরে পাওয়ার সম্ভব নয়। ইরেজ ডিভাইস করার ফলে আপনি অনেকটা নিশ্চিন্ত হতে পারবেন আপনার মোবাইলে থাকা পার্সোনাল ডকুমেন্ট, ছবি এবং  ফাইল অন্যের হাতে পড়া থেকে বেঁচে যাবেন। 



৪.ওয়েবসাইটের সাহায্যে হারানো মোবাইল খুঁজে বের করা। 

আপনি যদি অন্য কোন ফোন জোগাড় করতে বা ফাইন্ড মাই ডিভাইসটি নামাতে সক্ষম না হোন তবে সরাসরি ব্রাউজার থেকে ও google এর এই পরিষেবাটি গ্রহণ করতে পারেন। সরাসরি ব্রাউজার থেকে এখানে ক্লিক করুন

এই লিংকে গিয়ে সরাসরি আপনি সাইন ইন করে নিতে পারেন। এবং অ্যাপসের মতো এই সেবাটি নিতে পারেন।

 ৪.১. গুগল Find My Device ব্যবহারের শর্ত

google ফাইন্ড মাই ডিভাইস চমৎকার হলেও এটি ব্যবহারের বেশ কিছু শর্ত রয়েছে। নিচে সেগুলো আলোচনা করা হলো-

  • মোবাইল ফোন চালু থাকতে হবে। 

  • মোবাইলে একই গুগল একাউন্ট লগইন করা থাকতে হবে। 

  • মোবাইলে ডাটা কিংবা ওয়াইফাই এর সংযোগ থাকতে হবে। 

  • মোবাইলটি গুগল প্লে তে দৃশ্যমান থাকতে হবে। 

  • মোবাইলের লোকেশন সিস্টেম চালু থাকতে হবে। 

  • সর্বোপরি ফাইন্ড মাই ডিভাইস সিস্টেমটি চালু থাকতে হবে। 

  • ৫.আইএমইআই এর মাধ্যমে হারানো মোবাইল খুঁজে পাওয়া।

আইএমইআই এর পূর্ণরূপ হলো International mobail equipment identity. এটি এমন একটি সংখ্যা যা প্রত্যেক মোবাইলের জন্য ভিন্ন হয়ে থাকে। 

এই সংখ্যার মাধ্যমে প্রত্যেকটি মোবাইলকে আলাদা করে চিহ্নিত করা যায়। শুধু তাই নয় আপনারা হারিয়ে যাওয়া মোবাইলটি থেকে যদি সব তথ্য মুছে ফেলা হয় এমনকি সিমও খুলে ফেলা হয় তবে এই মোবাইলটির সাহায্যে ফোন খুঁজে পাওয়া সম্ভব।  কারণ সে মোবাইলে যে সিম ঢোকানো হবে সেটি তার নিকটস্থ টাওয়ারের সাথে সংযোগ করবে এবং সে সংযোগের মাধ্যমে আপনার IMEI তথ্য সিম কোম্পানির কাছে চলে যাবে এবং সংখ্যাটিকে যদি আগে কালো তালিকাভুক্ত করা হয় তবে মোবাইলটিকে ব্লক করে দেওয়া যেতে পারে। ফলে ঐ মোবাইলের সাহায্যে আর কোনো নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত হওয়া যাবে না। তখন মোবাইলটি অকার্যকর হয়ে যাবে৷ 

imei এর মাধ্যমে মোবাইল খুঁজে পেতে একটি সমস্যা রয়েছে। কারণ এটি তার কাজ নয়। মোবাইল উদ্ধার করতে হলে সরাসরি সিম কোম্পানি বা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। 



৬.শেষকথা

Mobile একটি মূল্যবান জিনিস। সুরক্ষার জন্য নতুন মোবাইল ফোন কেনার সময় অনেক বিষয় দেখে নিতে হবে৷ এটি যেমন দামি তেমন অনেকের কাছে স্মৃতি জড়িত। শকের জিনিস হারিয়ে গেলে মানুষ খোঁজার চেষ্টা করবেই। এটি স্বাভাবিক ব্যপার। তাই সবসময় এটি সাবধানে রাখবেন।

আজকের আর্টিকেলটি এখানেই শেষ হলো। কেমন লেগেছে আর্টিকেলটি তা অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন। এমন আরো আর্টিকেল চাইলে আমাদের bdbanglarnews.com ওয়েবসাইটটি ভিজিট করবেন। এতক্ষণ সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।