ডেঙ্গু প্রতিরোধে যা খাবেন

আপনার ডেঙ্গু হলে যা খেতে হবে বা ডেঙ্গু হলে কী খাবেন? ডেঙ্গু জ্বর হলে কি খেতে হবে এবং ডেঙ্গু জ্বর নিয়ন্ত্রণের ঘরোয়া ৫ উপায় জেনে রাখুন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে যা খাবেন
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সুস্থতার জন্যে খাদ্য

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে গিয়ে প্রত্যেক বার আমরা হাঁপিয়ে উঠি। কিছুতেই নিজেদের সামলানোর পরিস্থিতি থাকে না। তাই আজকে আমি আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আজকের এই পোস্টে আপনারা জানবেন ডেঙ্গু মৌসুমে কোন কোন খাবার খেলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব। 



বন্ধুরা আমাদের দেশে আবারও ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলেছে। বেশ কিছুদিন গ্যাপ দিয়ে আবারও শনাক্ত হচ্ছে ডেঙ্গু রোগী। সংক্রমণটি বাড়ার সাথে সাথে মৃত্যুর হারটাও ক্রমে ক্রমে  বেড়ে চলেছে। ইতোমধ্যে এই সংক্রমণে বেশ কিছু মৃত্যু ঘটেছে। কাজেই আমাদের এখন থেকে সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে এবং তা খুবই প্রয়োজন। অন্যথায় এই অবহেলার জন্য আমাদের নিজেদেরই মাশুল দিতে হবে। 



ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হওয়ার পূর্বেই আমাদের এটি প্রতিরোধ করার যথেষ্ট চেষ্টা করতে হবে৷ আর এটি প্রতিরোধ করার জন্য অবশ্যই নিজেদের সচেতন হতে হবে এবং অবশ্যই আশেপাশের লোকজনকে সতর্ক করতে হবে। এই সংক্রমণটি প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

যেমন- সবসময় মশারি টাঙিয়ে ঘুমানো, আমাদের ঘরের আশেপাশে বেশিদিন পানি জমতে না দেওয়া, আশেপাশে সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা যাতে সেখানে ডেঙ্গু জীবাণুবাহী এডিস মশার জন্ম হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে, নিয়মিত মশা মারার ঔষধ আমাদের আশেপাশে ব্যবহার করা যাতে মশার জন্ম হতে না পারে, গ্রামের মানুষগুলোকে এই বিষয় সম্পর্কে সচেতন করা। এছাড়া ডেঙ্গু হওয়ার মৌসুমে বেশ কয়েকটি খাবারকে অগ্রাধিকার দিয়েও ডেঙ্গু সংক্রমণটিকে প্রতিরোধ করা সম্ভব। 



বন্ধুরা আজ আবারও আমি আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। উপরে ইতোমধ্যে আমি বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছি৷ আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনারা জানাবেন ডেঙ্গু প্রতিরোধ করার জন্য আপনারা কী কী খাবার গ্রহণ করবেন। আশা করছি আজকের এই আর্টিকেলটি আপনারা শেষ পর্যন্ত পড়বেন এবং এর দ্বারা আপনারা উপকৃত হবেন। তো শেষ পর্যন্ত আমার সাথেই থাকুন।




ডেঙ্গু প্রতিরোধে যা খাবেন



বন্ধুরা এখন আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করছি ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের যে খাদ্য গুলো গ্রহণ করতে হবে সে-সম্পর্কে। চলুন জেনে নেওয়া যাক।



বর্তমান সময়ে ডেঙ্গু সংক্রমণ দিনদিন বেড়েই চলেছে। অনেকে আবার এতে হারাচ্ছে প্রাণ। এই ডেঙ্গুকে প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তবেই আমরা খুব সহজে ডেঙ্গুর মতো ভয়াবহ সমস্যাকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবো এবং নিজেদেরকে ডেঙ্গুর হাত থেকে মুক্ত করতে পারবো।



বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, শরীরের রোগ প্রতিরোধ তন্ত্র অর্থাৎ ইমিউন সিস্টেম যত বেশি শক্তিশালী হবে তখন ডেঙ্গু এবং অন্যান্য ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি তত বেশিই কমবে। চলুন এখন আমি আপনাদের জানাবো ডেঙ্গু মৌসুমে নিজেকে নিরাপদ রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউনিটি) বাড়াতে পারে এমন কিছু খাবারের তালিকা। 



সাইট্রাস খাবার: সাইট্রাস ফলে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি বিদ্যমান থাকে। যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরো বেশি শক্তিশালী করে তুলতে সাহায্য করে। এছাড়াও ভিটামিন সি আমাদের শরীরের শ্বেতরক্তকণিকা উৎপাদনেও সহায়তা করে থাকে। এসব রক্তকোষ আমাদের শরীরে ভাইরাস সংক্রমণের সাথে লড়াই করে। এছাড়া সাইট্রাস খাবারে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্টও। যা আমাদের শরীরকে রক্ষা করে ফরি রেডিক্যালস জনিত সমস্যা থেকে। নিচে আপনাদের সুবিধার জন্য আমি কিছু সাইট্রাস খাবারের নাম উল্লেখ করছি।



কিছু সাইট্রাস খাবার যেমন-

কাঁচামরিচ।

ক্যাপসিকাম

লেবু

কমলা

মোসাম্বি

পেয়ারা




রসুন: বিশেষজ্ঞদের গবেষণা থেকে জানা যায় রসুন আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে। এই মসলাটিতে উপস্থিত সালফার ইমিউনিটি বৃদ্ধি করে থাকে। এছাড়াও রসুন ডেঙ্গুর মতো ভাইরাস সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। তাই ডেঙ্গুর মৌসুমে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে চাইলে খাবারে এই মসলাটির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। এই মসলাতে অ্যান্টিফ্যাক্টেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদাও বিদ্যমান রয়েছে। 




দই: দই হলো একটি শক্তিশালী প্রোবায়োটিক। যা ইমিউন সিস্টেমের কাজকে উদ্দীপ্ত করে। এর ফলে ইমিউনিটি অনেক বেশি শক্তিশালী হয়। শক্তিশালী ইমিউন সিস্টেম কেবল ডেঙ্গু নয় আমাদের শরীরের যেকোনো ভাইরাস সংক্রমণের বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারে। আপনি চাইলে ডেঙ্গু মৌসুমে আপনার খাবারের তালিকায় দইকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। এতে আপনার শরীরের নিরাপত্তা নিশ্চিত অনেকটা নিশ্চিত হতে পারে।



পালংশাক: আমরা যদি সকল স্বাস্থ্যকর শাকের তালিকা একত্রিত করি তবে সবার উপরে পালংশাককে স্থান দেওয়া হবে। পুষ্টিবিদদের মতামত অনুসারে আমাদের রোজকার খাদ্য তালিকায় অবশ্যই শাক থাকা উচিত এবং প্রয়োজন। এক্ষেত্রে আপনি পালংশাককে আপনার খাদ্য তালিকায় অগ্রাধিকার দিতে পারেন। পালংশাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং বিটা ক্যারোটিন। এসব পুষ্টি আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। যার ফলে শরীর খুব সহজেই ভাইরাস সেই সংক্রমণকে পরাজিত করতে পারে। এছাড়া পালংশাক ওজন নিয়ন্ত্রণেরও সহায়ক, কারণ এতে প্রচুর ফাইবার বিদ্যমান। ডেঙ্গু মৌসুম ছাড়াও আপনি আপনার খাদ্য তালিকায় এই শাককে রাখতে পারেন।



কাঠবাদাম: আপনাদের নিশ্চয়ই জানা আছে কাঠবাদাম আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। তাই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য আপনারা দৈনিক ১০ থেকে ১৫ টা কিংবা এর চেয়ে বেশি করে কাঠবাদাম খেতে পারেন। এই কাঠবাদামের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ই। যা একটি শক্তিশালী লিপিড সলিউবল অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এটি সবচেয়ে কার্যকর পুষ্টি গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি। যা শরীরে রোগ সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। এছাড়া প্রতিদিন অল্প করে কিছু কাঠবাদাম খেলে আমাদের প্রত্যেকের হার্টের স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে। নিজের শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য কাঠবাদামকে একটি উপকারী খাদ্য বলা চলে। চাইলে আপনি এটি নিয়ম করে খেতে পারেন। 



হলুদ: হলুদ মসলাটি আমাদের শরীরের ইমিউন সিস্টেমের কাজের ক্ষমতাকে অনেক বৃদ্ধি করে। এই হলুদের প্রধান সক্রিয় উপাদান কারকুমিন একটি শক্তিশালী এন্টি ইনফ্লামেটরি এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এছাড়া এই উপাদান শরীরের অ্যান্টি ভাইরাস অ্যক্টিভিটির জন্যও অনেক প্রসিদ্ধ। গবেষকগণ গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত করেন, হলুদের কারকুমিন শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরিতেও বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই আমি আপনাদের বলবো ডেঙ্গু মৌসুমে আপনার শরীরের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করার জন্য অবশ্যই আপনার তরকারিতে রসুনের পাশাপাশি হলুদের ব্যবহারও কিছুটা বাড়াতে পারেন। তবে একটা কথা আপনাদের অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। অধিক তাপে এবং রান্না করার ফলে হলুদের কারকুমিনের গুণাগুণ অনেকাংশ কমে যেতে পারে। তাই সবচেয়ে ভালো উপায় হলো হলুদ পানিতে ভিজিয়ে তা পান করলে। এতে আপনি পাবেন হলুদের সব কারকুমিন। ডেঙ্গুকে প্রতিরোধ করার জন্য নিয়মিত এই পদ্ধতিটি নিতে পারেন।



আদা: আদাও আমাদের শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে অনেক বেশি শক্তিশালী করে তোলে। ডেঙ্গু মৌসুমে যখন ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে গেলে ঘনঘন আদা চা পান করতে পারেন। এতে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং আপনার শরীর সুস্থ থাকবে। এই মসলাটি ডেঙ্গু সংক্রমণের উপসর্গকে তীব্র হতে দেয় না। এছাড়া আদা আমাদের শরীরকে অনেক রোগ থেকে মুক্ত থাকতে সহায়তা করে। 



তো বন্ধুরা আমার আজকের আর্টিকেলটি এই পর্যন্ত। আজকের আর্টিকেলে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আপনাদের সাথে আলোচনা করেছি তা হলো ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের কোন কোন খাবার বেশি পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত। আশা করছি এই আর্টিকেলটি আপনাদের জীবনে প্রভাব ফেলবে এবং এর দ্বারা আপনারা উপকৃত হবেন। আজকের এই আর্টিকেলটি আপনাদের কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট জানাবেন। সাথে জানাতে পারেন আপনাদের অন্যান্য মতামত। কি রকম লেখা আপনারা আশা করছেন? এরকম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পেতে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করবেন। এতক্ষণ আমার সাথে থাকার জন্য আপনাদেরকে অনেক ধন্যবাদ।