মেয়েদের ঘরে বসে আয় করার উপায় 2022 | How to make money at home

মেয়েদের ঘরে বসে আয় করার উপায় 2022 | How to make money at home

ছেলে হবার পর ব্যাংকার শেফালির জীবনটা পাল্টে গেল, শ্বশুরবাড়ি থেকে যখন বলা হল আর চাকরি করা যাবে না। " প্রথমে ভেঙ্গে পড়েছিলাম, ভেবেছিলাম নিজের আর কিছুই করা হবে না। পরে গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এর উপর কোর্স করে অনলাইনে কাজ শুরু করলাম। এখন আয় আগের থেকেও বেশি সংসার এবং বাচ্চাকে পর্যাপ্ত সময় দিচ্ছি, আয় ও হচ্ছে এমন গল্প শুধু এক শেফালির না, এমন হাজারো শেফালী আছে আজ বাংলার ঘরে ঘরে।

ছেলেদের থেকে মেয়েরা আজ কোন অংশেই পিছিয়ে নেই। ঘরে বাইরে সবখানে তারা আজ তৎপর, করছে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ। ইন্টারনেটকে কাজে লাগে আজ মেয়েরা ব্যবসা করছে, হচ্ছে ফ্রিল্যান্সার,হচ্ছে সফল উদ্যোক্তা।  ইন্টারনেটের কল্যানে মেয়েরা চাইলে অফিসের কাজ আজ ঘরে বসেই করে দিতে পারছে। আর যারা গৃহিণী, তারাও ঘরের কাজের শেষে অবসর সময়ে, নিজের  শখকে কাজে লাগিয়ে করতে পারছে আয়। চলুন গদবাধা চাকরি আর ছকে বাঁধা জীবনের বাইরে গিয়ে মেয়েদের কিছু আয়ের এর উৎস নিয়ে ধারণা নেয়া যাক।



কনটেন্ট রাইটিং(Content writing)

গৃহিনীদের জন্য একটি সেরা আয়ের এর উৎস হতে পারে কনটেন্ট রাইটিং। প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন ওয়েবসাইট তৈরি হচ্ছে। আর সেগুলোতে ভালো মানের লেখকদের চাহিদা থাকে অনেক। কোন মেয়ে চাইলে সহজেই কন্টেন্ট রাইটিং এর কাজ করতে পারে। ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটগুলোতে (যেমন Fiverr, Upwork ও freelancing.com) নিজের অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সহজেই কনটেন্ট রাইটিং এর কাজ পাওয়া সম্ভব।



গ্রাফিক ডিজাইনিং(Graphic designer)

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং মহিলাদের জন্য হতে পারে দুর্দান্ত এক আয়ের উৎস এর দ্বারা ঘরে বসেই ভালো অর্থ  উপার্জন সম্ভব। তবে তার জন্য গ্রাফিক্স ডিজাইন সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকতে হবে আর হতে হবে সৃজনশীল। কয়েকজনকে নিয়ে টিম গঠন করে গ্রাফিক্স ডিজাইনিং করলে সাফল্যের  সম্ভাবনা বেশি থাকে।



অনুবাদক ( Translator)

কারো যদি দুই বা তারও বেশি ভাষায় দক্ষতা থাকে শেষ সহজেই অনুবাদক হতে পারবে । বাড়িতে বসেই সহজেই এ কাজ করা যায়।  ফ্রিল্যান্স বা চুক্তিভিত্তিক অনুবাদকের কাজ পাওয়া যায়।সাধারণত  অনলাইন পোর্টাল অথবা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসমূহ অনুবাদক নিয়োগ করে থাকে। 



গ্রাহকসেবা ব্যবস্থাপনা  ( Customer Service)

গ্রাহকদের অনুরোধে  বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অনলাইন ভিত্তিক সেবা দিয়ে থাকে। অনলাইন কেনাকাটার  ওয়েবসাইটগুলোতে ‘হেল্প’ অথবা ‘তাৎক্ষণিক সাহায্যের জন্য ই-মেইল করুন’ অপশন থাকে ক্রেতাদের জন্য। সে ক্ষেত্রে গ্রাহকসেবা ব্যবস্থাপকদের কাজ হলো নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এসব অনুরোধের জবাব দেয়া। এটা ঘরে বসে অনলাইনে অথবা ফোনেই সম্পন্ন করা যায়।



অ্যান্ড্রয়েড বা আইফোনের অ্যাপ তৈরি  ( App Making)

কোনো মেয়ের যদি কম্পিউটার বিজ্ঞান বা সফটওয়্যার প্রকৌশলে পড়াশোনা থাকে সে চাইলে  অ্যান্ড্রয়েড বা আইফোনের বিভিন্ন অ্যাপ তৈরির কাজ করতে পারে। সময়োপযোগী ও  মানুষের চাহিদা অনুযায়ী অ্যাপ বানাতে হবে।



তহবিল সংগ্রহ  ( Fund Collection)

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের জন্য বা দাতব্য প্রকল্প চালনার উদ্দেশ্যে তহবিল সংগ্রহের কাজ ঘরে বসেই করা যায় ।  সামাজিক ও যোগাযোগমাধ্যমে দক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ এ ক্ষেত্রে সাহায্য করে ।



ই-বই প্রকাশ ( E-Book Publish)

প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে  কাগুজে বইয়ের জায়গা নিয়ে নিচ্ছে যান্ত্রিক ই-বই। মানুষ এখন  ই-বই কিনতে শুরু করেছে প্রচুর পরিমাণে । এসব ই-বই প্রকাশ ও বিপণনের কাজ পুরোটাই অনলাইননির্ভর। আর এ কাজের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে কারন মানুষ এখন কাগুজে বই বহন করা ঝামেলা মনে করে।



ব্লগিং(Blogging)

যারা লেখালেখি করতে ভালোবাসে তাদের জন্য ব্লগিং হতে পারে একটি ভাল আয়ের উৎস । ব্লগ লিখতে হলে প্রথমে বেশ সময় দিতে হবে। ব্লগের পাঠক সংখ্যা বাড়লে, আর কিছু পাঠক নিয়মিত ব্লগ পড়তে শুরু করলে, Google Adwords-এর সাথে যুক্ত হয়ে ব্লগ বা ওয়েবসাইট থেকে আয় করা যায়।






অডিও ট্রানস্ক্রিপশন (Audio transcription)

 অডিও ট্রান্সক্রিপশনের কাজ মহিলাদের জন্য বাড়িতে বসে অর্থ উপার্জন করার একটি ভাল মাধ্যম হতে পারে । অনেকেই আছেন যারা অডিও ফাইলকে টেক্সট ফাইলে রূপান্তরিত করতে চায়। তাদের সাহায্য করতেই অডিও ট্রানস্ক্রিপটস এর উদ্ভব অডিও ট্রানস্ক্রিপটস কাজ হল একটি অডিও ফাইল থেকে শুনে শুনে কম্পিউটারে টাইপ করা। যাদের টাইপিং স্পিড বেশি তারা এই কাজের বেশি উপযুক্ত। 



১০ফর্ম ফিলিং ও ডেটা এন্ট্রি (Form filling and data entry )

ফর্ম ফিলিং ও ডেটা এন্ট্রি মেয়েদের ঘরে বসে রোজগার করার একটি সহজ উপায়। সঠিকভাবে ফর্ম ফিলিং করতে পারলেই অর্থ উপার্জন করা যায়। একা এই কাজ করে সফল হউয়া একটু কষ্টকর। তবে টিম গঠন করে ডেটা এন্ট্রির কাজ করলে আয় বেশ হয়।  



১১। ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় (Income from YouTube channel)

বর্তমান সময়ে  স্মার্টফোন রয়েছে প্রায় সকলের আর সব স্মার্টফোনেই রয়েছে ইন্টারনেট সংযোগ  । তাই আজকের দিনে  ইউটিউব চ্যানেল খুলে অর্থ উপার্জন খুবই সহজ। এক্ষেত্রে  প্রথমে ঠিক করতে হয়  কোন ধরনের ইউটিউব চ্যানেল খুলতে চাওয়া হচ্ছে। অনেকেই Vlogging করে অর্থ উপার্জন করা পছন্দ করেন । এছাড়াও মেকআপ ভিডিও,রান্নার ভিডিও,  কমেডিয়ান ভিডিও, শিক্ষামূলক ভিডিও বা পছন্দের কোন বিষয় নিয়েও ইউটিউব চ্যানেল খুলে আয় করা যায়।



১২। অনলাইন শিক্ষকতা (Online teaching)

বর্তমান সময়ে মেয়েরা চাইলেই অনলাইন টিউটর হয়ে আয় করতে পারেন। আর এ জন্য সে যেই বিষয় পড়াবে সেই বিষয়ে (topic) গভীর জ্ঞান আর শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকা জরুরি। কেউ চাইলে প্রাথমিক স্তরের বিষয়গুলিও পড়াতে পারে অথবা সে যদি বিশেষ দক্ষতা ও পড়াশোনা করে থাকে কোন বিষয়ে, সেই রকম কোন বিষয়ে  আবার পড়াতে পারে।



১৩। ভার্চুয়াল অ্যাকাউন্ট্যান্ট (Virtual Accountant)

 মেয়েদের জন্য ভার্চুয়াল অ্যাকাউন্ট্যান্ট হওয়া আয় করার এটি একটি ভাল সুযোগ ফ্রিল্যান্সিং ভার্চুয়াল অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে ঘরে বসেই যে কোন কোম্পানির যাবতীয় হিসাব নিকাশ করে দিয়ে আয় করতে পারে। আপনি আপনার কিছু নির্দিষ্ট গ্রাহকও ঠিক করে নিতে পারেন, যাদের কাজ করে দিয়ে আপনি নিয়মিত অর্থ উপার্জন করতে পারেন।



১৪। অনলাইন কোর্স (Online course)

মহিলাদের জন্য এখন অনলাইন একাডেমি আর অনলাইন কোর্স দারুন আয়ের সুযোগ। যদি কেউ একটি বা একাধিক বিষয়ে পারদর্শী হয়ে থাকেতাহলে সেই পারদর্শিতা কাজে লাগিয়ে আয় করা যেতে পারে। আপনি প্রথমে আপনার তৈরি করা ভিডিও-কেন্দ্রিক কোর্স অথবা পরীক্ষাভিত্তিক কোর্সের নির্দিষ্ট নাম ঠিক করবেন । এরপর কোর্স গুলিতে আগ্রহীদের আহবান করবেন আগ্রহীরা নিজেদের এনরোল করলে তা থেকে আপনি নিয়মিত আয় করতে পারবেন।



১৫. ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট (Virtual Assistant)

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট মেয়েদের জন্য খুবই ভাল একটি আয়ের মাধ্যম  । বাড়িতে বসে মহিলারা খুব সহজেই এই কাজটি করতে পারেন। এই কাজটি প্রথমে একজন গ্রাহককে নিয়ে করা যায় আবার টিম গঠন করে ও এই কাজটি বড় ভাবে করা যায় এমনকি এ কাজ ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও শুরু করা যায়। ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট এর কাজ হল ইমেইল চেক করা, অ্যাপয়নমেন্ট ঠিক করা এছাড়াও ব্যবসাসংক্রান্ত ফোন ধরা ইত্যাদি।



১৬। ড্রপশিপিং (Drop shipping)

বাড়িতে বসে সবচেয়ে সহজ ব্যবসা পদ্ধতি হল ড্রপশিপিং এর জন্য পণ্য মজুদের প্রয়োজন হয় না মনে করুন  আপনি একটি অনলাইন স্টোরের মালিক, কিন্তু আপনি পণ্য মজুত করেন না। এখন একজন ক্রেতা আপনার থেকে একটি পণ্য পছন্দ করে কিনবেন ও তার দাম দেবেন। এরপর আপনি ডিস্ট্রিবিউটার এর কাছে পণ্যটি অর্ডার করবেন এবং ডিস্ট্রিবিউটার সেই পণ্যটি সরাসরি ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেবে।  প্রথমে আপনাকে  বেছে নিতে হবে আপনি কোন ধরনের পণ্য বিক্রি করতে চান। এরপর আপনাকে একটা বিজনেস প্লাটফর্মে (কিছু জনপ্রিয় ওয়েবসাইট হলো Amazon FBA, Teespring, Shopify, এবং printful) রেজিস্টার করে অনলাইন স্টোর বানিয়ে নিতে হবে।



১৭। ইউজার টেস্টিং (User testing)

বড় বড় ওয়েবসাইট বা এপ তাদের পণ্য সম্পর্কে ক্রেতা ও গ্রাহকদের মতামত  জানতে চায়। মহিলারা ঘরে বসে কোন ওয়েবসাইট বা অ্যাপ সম্পর্কে নিজের মতামত দিয়েও চাইলে ইনকাম করতে পারে। এখানে তাকে স্পষ্ট ভাষায় বলতে হবে ওয়েবসাইটটা ব্যবহার করার সময় তার ওয়েবসাইটটি সম্পর্কে কি ধারণা হচ্ছে। একটি কম্পিউটার ও একটি মাইক্রোফোন থাকলেই যে কেউ ইউজার টেস্টিং করতে পারবে



১৮। সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার (Social media manager)

মহিলাদের জন্য এটি একটি অল্প পুজিতে লাভজনক একটি ব্যবসা। আপনি সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতে পারেন। আপনি যদি সোশ্যাল মিডিয়ার কার্যকলাপ সম্পর্কে ভালো মত জানেন এবং আপনি যদি কোন ব্যবসার হয়ে পোস্ট, কমেন্ট, মেসেজ ইত্যাদি করতে পারেন। তাহলে আপনি এখান থেকে ভালো ইনকাম করতে পারবেন।



এখানে মেয়েদের অনলাইন ভিত্তিক উপার্জনের কার্যকরী উপায়গুলো নিয়ে কথা বলা হলো। ঘরে বসে বাড়তি কিছু আয় করতে চাইললে এগুলো থেকে যে কোনটা করতে পারেন। এছাড়াও আপনার শখ ও  ঘরে কাজ করার দক্ষতা কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তা হয়েও ইনকাম করতে পারেন। আপনাদের জন্য পরবর্তী পোস্টে এ ব্যাপারে বলব। এই পোস্ট সম্পর্কে আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।